তামান্নাকে ফোন দিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী!!

যশোরের ঝিকরগাছায় পা দিয়ে লিখে পরীক্ষায় টানা চতুর্থবার জিপিএ-৫ পাওয়া অদম্য তামান্না আক্তার নূরার সঙ্গে এবার মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি। সেই সঙ্গে তামান্নার সঙ্গে দেখা করতে খুব শিগগিরই তিনি যশোরে আসবেন বলে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার সঙ্গে প্রায় ১২ মিনিট কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তামান্নার বাবা রওশন আলী বিষয়টি জানিয়েছেন।তামান্নার বাবা রওশন আলী বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী আমার ফোনে কল দিয়ে তামান্নার খবর নেন। একপর্যায়ে তামান্নার সঙ্গে কথা বলতে চান। আমার মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘ ২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড কথা বলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজি পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। দেখা করার জন্য শিগগিরই যশোর আসবেন বলেও জানিয়েছেন।’ রওশন আলী আরও জানান, শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মনোবল হারানো যাবে না। গোটা বাংলাদেশ তোমার সঙ্গে আছে। তুমি এগিয়ে যাও।

তোমার সঙ্গে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আছেন। তুমি নূরের নূর। আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন তোমাকে নূরের আলোয় আলোকিত করেছে। এক পা দিয়ে তুমি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছ, তুমি পারো এবং পারবে।’এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করাসহ দুটি স্বপ্নের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি লিখেছিলেন তামান্না। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ও সন্ধ্যায় পৃথক দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল দিয়ে তামান্নাকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা। একই সঙ্গে তাঁরা দুই বোনই তামান্নার স্বপ্নপূরণে সব সহযোগিতার আশ্বাস দেন।বাঁকড়ার আলীপুরের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে বড় তামান্না আক্তার নূরা। তামান্না যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সোমবার ঘড়ির কাটায় তখন সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিট। পড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তামান্না। হঠাৎ হোয়াটস্অ্যাপে ফোন। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে শোনা গেলো- ‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছিলাম।

আমি কি তামান্নার সঙ্গে কথা বলছি?’ কণ্ঠস্বর শুনে ঘাবড়ে যান তামান্না আক্তার নূরা। সম্মতি দিতেই তাকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষণিকের জন্য তামান্না বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তামান্না আনন্দে কেঁদে ফেলে। তাকে কান্না থামাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন, ‘তুমি কাঁদছো কেন। তোমার স্বপ্নপূরণ হবে।’এরপর কান্না থামিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সালাম দেন তামান্না। এ সময় তামান্না তার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা এবং তার স্বপ্ন পূরণে প্রধানমন্ত্রীকে পাশে চান। প্রধানমন্ত্রীও তার স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। আর তামান্নাকে ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে’ একটা আবেদন করার পরামর্শ দেন। ওই ট্রাস্টের মাধ্যমে তাকে সকল সহযোগিতা দিবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তামান্নার টানা ৪ মিনিটের কথাপোকথনে প্রধানমন্ত্রী তামান্নাকে একাধিকবার সাহস হারাতে নিষেধ করেন। বলেন, সাহস আর মনোবল থাকলে তুমি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পেরে দারুণ খুশি তামান্না। তিনি বলেন, প্রথমে দুজনের সঙ্গে কথা বলতেই ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। প্রবল মধুর আবেগে থর থর করে কাঁপছিল আমার ভেতরটা। মনে হচ্ছে আমার জীবনে সৃষ্টি হয়েছে ইতিহাস।

অনভূতি বোঝাতে পারবো না। এতটাই আনন্দিত হয়েছিলাম যে, কেঁদে ফেলেছিলাম। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে আমার জীবনের গল্প শোনাতে চেয়েছিলাম। মনে হয় তিনি ব্যস্ত থাকার কারণে বেশি কথা বলেননি। তবে আমাকে নিয়মিত ভালোভাবে পড়াশুনা এবং নিজের যত্ন নিতে বলেন।তামান্নার বাবা রওশন আলী বলেন, গত ২৪ জানুয়ারি যশোরের জেলা প্রশাসকের পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর চিঠি লিখেছিলেন তামান্না নূরা। তামান্নার লেখা চিঠি প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার পরে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তামান্নার আঁকা বিভিন্ন ছবিও দেওয়া হয় ওই চিঠির সঙ্গে। পরম করুণাময় আল্লাহর অসীম দয়ায় তামান্নার সঙ্গে আজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা কথা বলেছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*